সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু ‘কোভি খুশি কোভি গাম’-এর সিক্যুয়েল আসছে! ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা আলাদা কেন, হেমা মালিনী মুখ খুললেন ভারতীয় ‘এসজি’ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সাথে চুক্তি নবায়ন করবে না নাসিরের ঝড়ো ৯০ রানের ইনিংস দিয়ে ঢাকার সহজ জয় বাগেরহাটে মাদক বিরোধী ভলিবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান খুলনায় মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অ্যাশেজের শেষ দিনে উত্তেজনা, খাজার বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আবার কার্যকর

সরকার মাধ্যম্যকালীন সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারগুলো নিশ্চিত করে দিয়েছে। রোববার এই বিষয়টি জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার আগামী ছয় মাসের জন্যও একই থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। তবে, এই সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকজনের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যারা তাদের জীবনযাত্রার জন্য এই বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল।

খবর অনুসারে, রোববার অফিস খোলার পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয় এবং পূর্বের হারে মুনাফা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে আবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

বর্তমানে রাষ্ট্রের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে বিভিন্ন মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে সুদ দেওয়া হয়। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমে যায়। একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ পান। সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর সময়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কম পাওয়া যায়। যেখানে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয়, সে ক্ষেত্রে মূলধন এবং নির্দিষ্ট হারে মুনাফা সমন্বয় করা হয়।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ। এই হার আগে কমে ১০.৪৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে এই হার পূর্বের মতো রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে ১০.৪১ শতাংশে নামানো হয়েছিল, কিন্তু এখন সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের জন্য একই হার পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারির পর থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ৬ মাসের বাজার নিলামের ভিত্তিতে ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুযায়ী এই নিয়ম চালু হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমানো হয় এবং এ জন্য গত বৃহস্পতিবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই হার ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোই মূল গ্রাহক যারা নানা পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে প্রয়োজনের খরচ চালান বা মাসিক জীবিকার জন্য আয়ের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করেন। মূল্যস্ফীতির কারণে গত দুই বছরে মোটা দাগে দাম বেড়ে গেছে, যদিও সাম্প্রতিক মাসে সামান্য কমলেও এখনও তা ৮ থেকে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার কমানো উচিত নয়, বরং তাদের জন্য এই সুবিধা রক্ষা করা জরুরি, যাতে তারা জীবনযাত্রায় সহজ সুবিধা পান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd